কান পেতে শোনো
চোখের সামনে ভেসে ওঠে
শিশুর অবসাদ্গ্রস্ত মুখের ভাস্কর্য
অভুক্ত মুখের যন্ত্রনা
কেঁদে কেঁদে শুকিয়ে যাওয়া চোখের কোন
ফুটপাথে, ড্রেনের ধারে;
ইঁট পাথরের ফাঁকে কাঠকুঠুরীর আগুন জ্বেলেছে তার মা
আর দিদি গেছে বাবুর বাড়ি, নিজেকে পণ্য করে
নগ্ন ভুখা বালক চলেছে কেঁদে।
একটা ছোটো গপ্প বলা যাক,
সত্যি কথার গপ্প,
একবারটি চলে যাই যে কোনো শহরের
অনামী বস্তিতে
উঁকি মেরে দেখি ইঁট বের করা
পাল্লা ঝুলে পড়া কোনো জানালায়;
বাতায়ানে নীল আকাশের দিকে একদৃষ্টে
চেয়ে আছে সাকিনার আম্মি
তার দেহ ভেঙে পড়েছে, আরও ভেঙে পড়েছে মন।
ক্ষনে ক্ষনে চমকে ওঠে আম্মি,
আর্তনাদ করে কানে আঙুল চাপা দেয়
তার কানে বাজে গম্বুজ ভাঙ্গার শব্দ
উন্মাদ জনতার আক্রোশ ভরা ধর্মান্ধ স্লোগান।
দুচোখ দিয়ে ঢাকতে চেষ্টা করে বিভিষীকাময় সেই দিন।
একমাত্রা বেটা ----- সাহিল,
তাকে টেনে নিয়ে গিয়ে কুপিয়ে মেরেছে
ওপাড়া-র ভাঙ্গা বাড়িতে।
আর সাকিনা -- তার নিষ্পাপ ফুলের মত মেয়েটা,
কি দোষ ছিল তার? ... মেয়েহয়ে জন্মানো ?
তুলে নিয়ে গেছে তাকে,
হয়তো দেখা মিলবে কোনো ছোকরিগলিতে
বাবুর জন্য পশরা সাজিয়ে বসেছে আজ
বা হয়তো নেই।
আজও মনে পড়ে তার ডাক ... আম্মিগো বাঁচাও , আম্মি বাঁচাও
বাড়ির ভাঁড়ার ঘর রক্তে লাল হয়ে গিয়েছিল সেদিন সকালেই
অর্কপ্রভর রক্তে ---- সাকিনার পাতানো রাখী ভাই ছিল সে।
দাঙ্গা থেকে বাঁচতে আশ্রয় নিয়েছিল সে ফুফার কাছে,
তার খুনের প্রতিশোধের আগুনে জ্বলে গেল নাজানি আরো কতো প্রাণ।
সাকিনার আম্মি ছটফট করে ওঠে,
থরথর করে কেঁপে ওঠে সাকিনার আম্মি।
মুখোষ লাগিয়ে মানুষের জঙ্গলে হারিয়ে গেছে মনুষ্যত্ব।
আকাশের দিকে তাকিয়ে
নাতুন রাঙা সুর্য দেখবে বলে
আজো যুগযুগান্ত ধরে অপেক্ষা করছে আনেক সাকিনার আম্মি।
এত অন্ধকারেও চোখ বুজে দেখার চেষ্টা--
অনাগাত সেই আলোকিত দিনগুলিকে ।
যবে নিশ্চিহ্ন হবে সহস্র বর্ষের
সীসার মত জমাট বাঁধা কালো পাহাড়।
এতো আঁধারেও আমরা এক চোখ স্বপ্ন নিইয়ে
একমুঠো আলোর প্রত্যাশী।
প্রত্যাশী ঋষির মত স্নিগ্ধ , শান্ত দিনের।
সেই প্রত্যাশাই বাঁচিয়ে রেখেছে নাতুন সমাজের বীজ
যখন দেখি ঠাকুমার কাছে কোল ঘেঁষে
কাচিকাচাঁরা পড়ছে ঠাকুমা'র ঝুলি।
যখন দেখি প্রবীন প্রাক্তনী আর বর্তমান ছাত্রের দল
এক সাথে করছে পুনর্মিলন উতসব।
যখন দেখি শ'শ' নগ্নপদ মানুষ মুষ্ঠি
আকাশের দিকে তুলে চলেছে
বিপ্লবের আগুনের খোঁজে;
যখন দেখি " নগর সাম্রাজ্যের ধংসস্তুপ'পরে
ওরা কাজ করে" চলেছে,
অন্তহীন কর্মমুখর জনতা।
তখন মনে হয় --
সভ্যতা, ঐক্য, মিলন , সংহতি, স্বাধীনতা, সাম্য
এসব শব্দ শুধু অভিধানে ছাপা অক্ষরমালা নয়,
ওদের দেহ সুর্যের আলো দিয়ে তৈরী।
উজ্জ্বল তারা নক্ষত্র-এর মত
আঁধারেও ... স্নিগ্ধা , পবিত্র চন্দ্রালোকের ন্যায়।
ওরা সবুজ ঘাষের দগায় জ্বলা মানিকের ছটা,
ভোর রাতে গাছে দেকে ওঠা দোয়েলের ভোরাই,
ওরা কাশবনে তিরতিরিয়ে বওয়া হাওয়া,
বা চঞ্চল চপল ঝর্ণা।
ওরাই আনবে নবদিগন্তে নবারুনের উন্মেষ।
মুক্তির প্রতিক্ষায় যন্ত্রণায় কাতর এই পৃথিবী।
গায়ে আধুনিকতার রঙ মেখে
সভ্যতা আজ দাঁড়িয়েছে সং সেজে।
ভোগবাদ আর আত্মসর্বস্বতা--
স্বার্থপরতা আর লোলুপতা
এগুলো নিছক শব্দ নয়, নয় শুধু সংবাদপত্রে ছাপার জন্য
এরা প্রবল পরাক্রান্ত, এরা মানবিকতার শৃঙ্খল।
এরা একএকজন কারাগারের গারদ
আর হিংসা আর লালসা দুই প্রহরী।
নাগপাশে বদ্ধ সভ্যতা
মুক্ত বাতাস চায়, চায় অক্সিজেন।
ভয়ঙ্কর কাল লোমশ থাবায় বান্দী ময়ুখমালী,
বাতাসে বারুদের গন্ধ ,
অগণিত কৃমিকীটের ন্যায় কিলবিল করছে আবিলতা।
ঊষ্ণ অবিশ্বাস আর দম্ভের নিশ্বাস ছাড়ছে বন্দুকের নল।
সুন্দর গোলাপের পাপড়ি কাদায় পচে গেছে।
পাকেজিং এর আক্রমনে নারী, প্রেম, ভোট , মেধা।
সব নিতান্তই পণ্য মাত্র।
ধনতন্ত্রের রংচঙে ভাঁড় লাঠি হাথে সেজেছে আবিভাবক।
শাসন এবং শোষন দুই কারে সমান তালে।
প্রবল গ্রীষ্মের দবদাহে ঝলসে যাওয়া বাতাস
সুস্থ মানুষ চাতকের মত চেয়ে থাকে শান্তির প্রতিক্ষায়
স্বপ্ন দেখে নীলনবঘন গগনের
কঠোর মাটির বুকে নীল সমুদ্র আনতে চায় দুর্নিবার তারুণ্য
এর-ই মাঝে দেখো যদি ফুলের দোকানে
মালাগুলো যেন সুতোর কঙ্কালে ঝোলে
সাদা আর হলুদ মাংস লাগি্যে
শুকনো ফুলের মালায়
সভ্যতাও তেমনি আজ শুষ্ক আস্থিসার।
হতাশ মনে জন্ম নেয় জবাবহীন শত প্রশ্নের
শিশুর মত নিষ্পাপ , স্নিগ্ধ প্রভাত কি আর দেখতে পাবো?
কবে দেখবো সেই শিশির স্নাত , রৌদ্র গলানো সুবাসিত ভোর।
স্বপ্ন ভঙ্গের পর জ্বলে ওঠে চোখ
প্রভাতের বাতাসে থেকে যায় বাসি রাতের উচ্ছিষ্ট লুন্ঠিত কলঙ্ক।
চোখের সামনে ভেসে ওঠে
শিশুর অবসাদ্গ্রস্ত মুখের ভাস্কর্য
অভুক্ত মুখের যন্ত্রনা
কেঁদে কেঁদে শুকিয়ে যাওয়া চোখের কোন
ফুটপাথে, ড্রেনের ধারে;
ইঁট পাথরের ফাঁকে কাঠকুঠুরীর আগুন জ্বেলেছে তার মা
আর দিদি গেছে বাবুর বাড়ি, নিজেকে পণ্য করে
নগ্ন ভুখা বালক চলেছে কেঁদে।
একটা ছোটো গপ্প বলা যাক,
সত্যি কথার গপ্প,
একবারটি চলে যাই যে কোনো শহরের
অনামী বস্তিতে
উঁকি মেরে দেখি ইঁট বের করা
পাল্লা ঝুলে পড়া কোনো জানালায়;
বাতায়ানে নীল আকাশের দিকে একদৃষ্টে
চেয়ে আছে সাকিনার আম্মি
তার দেহ ভেঙে পড়েছে, আরও ভেঙে পড়েছে মন।
ক্ষনে ক্ষনে চমকে ওঠে আম্মি,
আর্তনাদ করে কানে আঙুল চাপা দেয়
তার কানে বাজে গম্বুজ ভাঙ্গার শব্দ
উন্মাদ জনতার আক্রোশ ভরা ধর্মান্ধ স্লোগান।
দুচোখ দিয়ে ঢাকতে চেষ্টা করে বিভিষীকাময় সেই দিন।
একমাত্রা বেটা ----- সাহিল,
তাকে টেনে নিয়ে গিয়ে কুপিয়ে মেরেছে
ওপাড়া-র ভাঙ্গা বাড়িতে।
আর সাকিনা -- তার নিষ্পাপ ফুলের মত মেয়েটা,
কি দোষ ছিল তার? ... মেয়েহয়ে জন্মানো ?
তুলে নিয়ে গেছে তাকে,
হয়তো দেখা মিলবে কোনো ছোকরিগলিতে
বাবুর জন্য পশরা সাজিয়ে বসেছে আজ
বা হয়তো নেই।
আজও মনে পড়ে তার ডাক ... আম্মিগো বাঁচাও , আম্মি বাঁচাও
বাড়ির ভাঁড়ার ঘর রক্তে লাল হয়ে গিয়েছিল সেদিন সকালেই
অর্কপ্রভর রক্তে ---- সাকিনার পাতানো রাখী ভাই ছিল সে।
দাঙ্গা থেকে বাঁচতে আশ্রয় নিয়েছিল সে ফুফার কাছে,
তার খুনের প্রতিশোধের আগুনে জ্বলে গেল নাজানি আরো কতো প্রাণ।
সাকিনার আম্মি ছটফট করে ওঠে,
থরথর করে কেঁপে ওঠে সাকিনার আম্মি।
মুখোষ লাগিয়ে মানুষের জঙ্গলে হারিয়ে গেছে মনুষ্যত্ব।
আকাশের দিকে তাকিয়ে
নাতুন রাঙা সুর্য দেখবে বলে
আজো যুগযুগান্ত ধরে অপেক্ষা করছে আনেক সাকিনার আম্মি।
এত অন্ধকারেও চোখ বুজে দেখার চেষ্টা--
অনাগাত সেই আলোকিত দিনগুলিকে ।
যবে নিশ্চিহ্ন হবে সহস্র বর্ষের
সীসার মত জমাট বাঁধা কালো পাহাড়।
এতো আঁধারেও আমরা এক চোখ স্বপ্ন নিইয়ে
একমুঠো আলোর প্রত্যাশী।
প্রত্যাশী ঋষির মত স্নিগ্ধ , শান্ত দিনের।
সেই প্রত্যাশাই বাঁচিয়ে রেখেছে নাতুন সমাজের বীজ
যখন দেখি ঠাকুমার কাছে কোল ঘেঁষে
কাচিকাচাঁরা পড়ছে ঠাকুমা'র ঝুলি।
যখন দেখি প্রবীন প্রাক্তনী আর বর্তমান ছাত্রের দল
এক সাথে করছে পুনর্মিলন উতসব।
যখন দেখি শ'শ' নগ্নপদ মানুষ মুষ্ঠি
আকাশের দিকে তুলে চলেছে
বিপ্লবের আগুনের খোঁজে;
যখন দেখি " নগর সাম্রাজ্যের ধংসস্তুপ'পরে
ওরা কাজ করে" চলেছে,
অন্তহীন কর্মমুখর জনতা।
তখন মনে হয় --
সভ্যতা, ঐক্য, মিলন , সংহতি, স্বাধীনতা, সাম্য
এসব শব্দ শুধু অভিধানে ছাপা অক্ষরমালা নয়,
ওদের দেহ সুর্যের আলো দিয়ে তৈরী।
উজ্জ্বল তারা নক্ষত্র-এর মত
আঁধারেও ... স্নিগ্ধা , পবিত্র চন্দ্রালোকের ন্যায়।
ওরা সবুজ ঘাষের দগায় জ্বলা মানিকের ছটা,
ভোর রাতে গাছে দেকে ওঠা দোয়েলের ভোরাই,
ওরা কাশবনে তিরতিরিয়ে বওয়া হাওয়া,
বা চঞ্চল চপল ঝর্ণা।
ওরাই আনবে নবদিগন্তে নবারুনের উন্মেষ।